আজ ২৫ মার্চ—ভয়াল গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই রাতেই নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় অধ্যায়, যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত।
এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযানে ঢাকা ও সারাদেশের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে।
পাকিস্তান সরকার নিজেদের প্রকাশিত দলিলেও এই গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে বলা হয়েছিল, “১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।”
২৫ মার্চের এই গণহত্যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালের ১১ মার্চ ‘২৫ মার্চ’কে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
আজ এই দিনে, জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং শপথ নিচ্ছে—গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনাকে অমলিন রাখার।